২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Nazrul Islam

আজকের সংবাদ, ফিচার, স্বাস্থ্য

মনের যত্নে মানুষ, মানুষের যত্নে সমাজ

মোহাম্মদ রাসেল :  ‘মন’ হলো, দেহতরী। তরীর সুপথ বিনে দেহের সুপথ হয় না। আবার দেহের সুস্থতা তরীকে সঠিক নিশানায় নিয়ে যায়। দেহ ও মন এক হলে, ‘যোগ’ হয়। যোগ সাধনা হলো, ব্রহ্ম খোঁজার অন্যতম সাধনা। দেহ-মন উভয় একই সময় সুস্থ হলে, তবেই চৈতন্যের আশা করা যায়। সেই দেহের তরী অর্থাৎ মনের ব্যাপারে আমরা কতটুকু যত্নশীল? কিংবা অপরের মনের ওপর আমরা কতটুকু সচেতন? কয়েক বছর আগে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। অর্থাৎ, ১৮% মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। জুলাই আন্দোলনের কয়েক বছর আগের জরিপ এটি। তাহলে ভেবে দেখুন, আন্দোলনের পর মানসিক অবস্থা আরো কত অবনতি হতে পারে! কেননা, বহু অনৈক্যের ফলে অনেক মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে।  আসা যাক, ১৮% সংখ্যাটা কত বড়! সেটা ছোট করার জন্যে যে পরিমাণ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, সাইকিয়াট্রিক সোস্যাল ওয়ার্কার ও অকুপেশনাল থেরাপিস্ট প্রয়োজন, সে তুলনায় তা আছেন অত্যন্ত নগণ্য পরিসরে। মানসিক হাসপাতালেরও একটা সংকট আছে। তাছাড়া, দেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জানা, শিক্ষা, সচেতনতা ও সঠিক আচরণেও বিরাট অভাব রয়েছে। উল্টো রয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা কুসংস্কার। ফলে মানসিক রোগীদের সাথে বিরূপ আচরণ, অসম্মান, অমর্যাদা, অত্যাচার ও হেয় প্রতিপন্ন করেন অধিক লোকজন। এ দেশেই খবর পাওয়া যায়, গাড়ির চাকায় পিষ্ট মানসিক রোগী কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গলা কেটে হত্যা অথবা মানসিক রোগীকে পথে-গারদে গণধর্ষণ! মনের দুটি অংশ। একটি দেখা যায়, অন্যটি দেখা যায় না। মনের ব্যবহারিক কার্যকলাপ আমরা দেখতে পাই, কিন্তু মনের প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাই না। ফলে কারোর বিচার করার অধিকার আমাদের যেমন নেই, তেমনই কাউকে দোষারোপ করার সঠিক কারণও হতে পারে না। কারোর একটি অংশ দেখে বিচার করতে বসা বড়ই অবিচার! তারচে বরং, দেখা লোকদের মানসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হই। মানুষের আবেগ, চিন্তা, তথ্য, স্মৃতি, উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গি এসব মানসিক প্রক্রিয়ায় পড়ে। এসব তৈরি হয় জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য থেকে। ফলে কারোর নিজের হাত নেই আজকের তার মানসিক অবস্থার জন্যে। কারোর যেহেতু একইভাবে এ তিনটির বিকাশ বা গঠনে ভূমিকা রাখে না, সেক্ষেত্রে সকলের মানুষের ভিন্ন ভিন্ন বিকাশ ও আচরণ বা অবস্থা তৈরি হয়। আমাদের কাজ হলো, পারস্পরিক সমঝোতা। মানসিক রোগীদের ওপর অনেকেই নিপীড়নমূলক আচরণ করেন। মনে করেন, ওনারা ইচ্ছে করে পাগলামি করে। কিন্তু এটি যে ইচ্ছের অনেক বাহিরে একটি অবস্থা, সেটা কেউই বুঝেন না এবং কেউবা বুঝেও সহ্য করতে পারেন না। সঠিক আচরণ তো আরো দূরে! আমার কাছে কেন মানুষ এতো পবিত্র–দেবতুল্য? কেন মানুষকে আমি মাথায় তুলে রাখতে চাই? কারণ, যখন জানতে ও উপলব্ধি করতে সক্ষম হই, মানুষ আসলে কিছুই করে না। তখনই মানুষের প্রতি দোষারোপ করা আর বিন্দুমাত্র থাকে না। মানসিক রোগ হয় জৈবিক, সামাজিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের তিনটা ফ্যাক্টরের জটিল মিথস্ক্রিয়া থেকে। যখন জৈবিক বৈশিষ্ট্য মেইন রোল প্লে করে, তখন একধরনের রোগ হয়, আবার যখন সামাজিক কিংবা মানসিক বৈশিষ্ট্য মেইন রোল প্লে করে, তখন ভিন্ন ভিন্ন মানসিক রোগের উদঘাটন হয়। তাই মানসিক রোগে রোগী একটা পুতুল, এ দায় তার নয়; দায়ী বা সমস্যা হলো, উক্ত তিন ফ্যাক্টরের। ফলে উক্ত তিন ফ্যাক্টর যদি আমরা না বুঝে থাকি, তবে আমরা অজ্ঞাতভাবেই দোষ দেব—আঘাত করব পুতুলরূপে মানসিক রোগীদের। তাই মূল সমস্যা বুঝতে হবে, জানতে হবে যে রোগের ব্যাপারে মানসিক রোগীদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বরঞ্চ, আমাদের সঠিক আচরণে তাকে হয় ধীরে ধীরে সুস্থ–স্বাভাবিক করে তুলবে, নয়তো খোঁচামূলক বা ভুল আচরণে তাকে ক্ষেপিয়ে তুলে আরো অবনতির দিকে ঠেলে দেবে। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের নিজের প্রতি যতটা নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব থাকে, তারচে বরং তাদের প্রতি আমাদের আচরণের প্রভাব অনেক অনেক অনেক বেশি। তাই তাদের প্রতি আমাদের আচরণে সচেতনতা, করুণা ও সম্মান জরুরি। যদি আমরা আমাদের আচরণের মধ্য দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধবে ভূমিকা রাখি, তবেই ফ্যাক্টরগুলো সঠিকভাবে বিকাশ লাভ করবে। সমাজে মানসিক রোগীও হ্রাস পাবে। এ বিষয় সংক্রান্ত একটা ঘটনা বলছি, সেদিন শুক্রবার বিকেলে বিপ্লব উদ্যান হয়ে প্রবর্তক মোড়ে যাচ্ছিলাম। হুট করে ফোন আসলো ডিরেক্টর সাহেবের, ‘আজ রিহার্সাল রয়েছে’। ইদানীং উনি হুটহাট করে রিহার্সেল দিচ্ছেন। যাইহোক, সময় কাটাবার জন্যে মাত্র ২ ঘণ্টা সময় পাচ্ছি। প্রবর্তক মোড়ে পৌঁছাবার আগে ইসকন মন্দির পড়ে। গল্প সেখান থেকেই শুরু। মন্দিরটা পাহাড়ের ওপরে। ফলে উঁচু থেকে নামছিল সোনালী দি। তিন বছর পর আজ দেখা। দূর থেকেও চেনা যায়। সেই একই ছন্দ, গতি আর ভঙ্গি। শুধু চেহারাটা কিছুটা বদলে গিয়েছে। দেখতে পেয়ে ডাক দিলাম। আমাকে দেখে দৌড়ে এসে কাছে দাঁড়ালো। আহা, কতদিন পর দেখা! কেবল চোখের নিচে কালি আর চেহারায় বিষণ্নতার ছাপ ছাড়া কোনো বদল নেই। একপাশে দাঁড়িয়ে আলাপচারিতা হতে হতে দিদির পাশে দুই তরুণী এসে দাঁড়ালো। দিদি পরিচয় করিয়ে দিলেন, জানলাম দুজনেই ওনার মেয়ে। দিদির সাথে কত গবেষণাধর্মী গ্রুপ কাজ করেছি; কিন্তু কখনো জানতে চাইনি পরিবারের কথা! অবশ্য জানার প্রয়োজনও বোধ করিনি। দিদির মেয়েগুলোর পরিচয় জানতে পেয়ে হিসেব মেলালাম। একজন আমারই বয়সী আর অন্যজন আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়। বড়জন আছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে। দিদির দুই মেয়ে যখন আমাকে ‘মামা, মামা’ বলে সম্বোধন করছে, রাগে যা হয়েছিল না! কাজের সূত্রে সোনালী দি’কে যখন দিদিই বলে ডেকেছি, তখন এ কাফ্ফারা মাথায় পেতে নিতে হবে। কিছু করার নেই!  যাকগে, আলাপে জানতে পারলাম ওনারা শিল্পকলার দিকে যাবেন। আমিও যেহেতু একই পথে যাব, সেহেতু ওনাদের গাড়িতে উঠে পড়লাম। ড্রাইভারকে বলে গাড়ি থামিয়ে গোলপাহাড় আমাদের নামতে হলো, দিদির ছোট মেয়ে অর্থাৎ যে আমার বয়সী তার কী যেন একটা পছন্দ হলো। সেটা কেনার জন্যে দিদি, ছোটজন আর আমি গাড়ি থেকে নামলাম। বড়জন নামলেন না। চুপচাপ বসেই আছেন। ছোটজন একবার তাকে আসার জন্যে বললেন, কিন্তু তিনি কোন হ্যাঁ/না শব্দ করলেন না। কেনা শেষে গাড়িতে উঠব, অমনি বড়জন গিয়ে উঠলেন রেস্তোরাঁয়। দিদিসহ আমরাও রেস্তোরাঁয় গিয়ে বড়জনের টেবিলে বসলাম। অদ্ভুত ব্যাপার! রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ারের সাথে এক যুবক ওয়েটারের বাকযুদ্ধ হচ্ছে। অন্য দুই তরুণ ওয়েটার যুবক ওয়েটারকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের টেবিলের দায়িত্ব যুবক ওয়েটারের পড়েছে। ফলে অর্ডার করবার সময় হাসির বদলে আমাদের দিকে রাগী চোখে তাকাচ্ছে। অর্ডার করতে আমাদের খানিকটা দেরি হওয়াতে এ লোক ক্ষেপে উদ্যত আচরণ করে। সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের অর্ডার উনি নিবেন না! কেন? কারণ, আমরা অর্ডার দিতে দেরি করেছি। ওনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছি, ফলে ওনার সময় নষ্ট হয়েছে তাই! তরুণ আর একজন ওয়েটার এসে ওনার বদলে আমাদের খাবারের অর্ডার নিচ্ছিল, অমনি উনি এসে তরুণের ওপর তৎক্ষণাৎ ভায়োলেন্ট অ্যাকশনও নিয়ে ফেললেন। এ ধরনের আচরণে আর এক মুহূর্তও ওখানে না বসে আমরা কিছু পথ হেঁটে পাশের রেস্টুরেন্টে বসলাম। আমরা চারজন বসে আছি, খাবার অর্ডার হলো। লক্ষ্য করলাম, দিদি খাচ্ছে না আর তাছাড়া দেখা হওয়ার পরও তেমন কথা বলছে না। কেমন যেন চুপচাপ! কিন্তু তিন বছর আগে কেউ যদি দিদিকে দেখতো, ওনার উৎফুল্ল চঞ্চলতা

আজকের সংবাদ, জাতীয়, রাজনীতি

বিএনপি মহাসচিব থেকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ 

ঢাকা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর তিনি দলীয় দুই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রিজভী আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সংবাদ, রাজনীতি, সর্বশেষ

সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ঢাকা প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি ১২ আগস্ট বুধবার রাতে দেশে আসেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ধর্মমন্ত্রীর হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ শেষে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করায় এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা শুরু করায় দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ও স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে উপস্থিত হয়েছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ, যুবদলের আহবায়ক সোহেল সামাদ সহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে প্রিয় নেতাকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে পাওয়ায় মুরাদনগরের বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মন্ত্রীর দেশে ফেরার সংবাদে বাঙ্গরা উপজেলা মৈত্রী ফোরাম, বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাব, বাঙ্গরা উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম, বাঙ্গরা উপজেলা নাগরিক ফোরাম এবং ঐতিহ্য কুমিল্লা-এর পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তার দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্থতায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন বাঙ্গরা প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা সাহিদুল হোসেন, সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল এবং সাধারণ সম্পাদক এমকেআই জাবেদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও পূর্ণ আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে।

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা

ক্যারিয়ারসেরা বোলিং হাসান মাহমুদের, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেট

রাকিবুল ইসলাম : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার দিনে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ দেখালেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। নতুন বলে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে একের পর এক আঘাত হেনে স্বাগতিক ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেন তিনি। তাঁর বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকেন। বিশেষ করে স্টিভ স্মিথের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি ছিল হাসানের স্পেলের অন্যতম সেরা সাফল্য। স্মিথ ৭১ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু হাসানের বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিরোধও ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। আর বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ তুলে নেন ৬ উইকেট—যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে এমন পারফরম্যান্স হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আগুনঝরা বোলিং বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টেই এনে দিয়েছে দারুণ আত্মবিশ্বাস।

আজকের সংবাদ, প্রবাস, মতামত

খরা, বন আগুন ও নিরাপত্তা উদ্বেগে জার্মানি; একই দিনে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টির অপেক্ষা 

মুনির হোসাইন জুয়েল, জার্মানি :  দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তীব্র গরমে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে রাইন নদীতে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটির পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি Baden-Württemberg-সহ কয়েকটি অঞ্চলে বন আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মী কাজ করছেন। দীর্ঘ খরার কারণে রাইন নদীর কয়েকটি অংশে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইনের ওপর দেশটির পণ্য পরিবহন ও শিল্পের সরবরাহব্যবস্থার একটি বড় অংশ নির্ভরশীল। পানির স্তর আরও কমে গেলে পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে কম পণ্য নিয়ে চলাচল করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খরার প্রভাব শুধু রাইন নদীতেই সীমাবদ্ধ নয়। Baden-Württemberg-এর বিভিন্ন এলাকায় বন আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। শুষ্ক আবহাওয়া ও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে Bodensee-সহ বিভিন্ন জলাশয়ের পানির স্তর কমে যাওয়ায় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে আজ জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ রয়েছে। বিরল এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে Perseiden উল্কাবৃষ্টিও দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একই দিনে প্রকৃতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দুটি ভিন্ন আকর্ষণীয় ঘটনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন জার্মানির মানুষ। অন্যদিকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ড্রোন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনার পর Federal Police-এর ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা-সংবেদনশীল এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে নতুন কিছু সমীকরণের ইঙ্গিত। সাম্প্রতিক ARD-DeutschlandTrend জরিপে ডানপন্থি দল AfD-এর সমর্থন বেড়েছে, বিপরীতে Union জোটের জনপ্রিয়তায় কিছুটা পতন দেখা গেছে। জরিপের এই প্রবণতা জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে, খরা, বন আগুন এবং নদী ও জলাশয়ের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জার্মানির পরিবেশগত চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ড্রোন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমর্থনের পরিবর্তন দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এসব উদ্বেগের মধ্যেই আংশিক সূর্যগ্রহণ ও সম্ভাব্য Perseiden উল্কাবৃষ্টি জার্মানির মানুষের জন্য প্রকৃতি ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণের একটি আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে।

আজকের সংবাদ, ফিচার

ইলুমিনাতির ইতিহাস, বাস্তবতা ও প্রচলিত ধারণা

মোহাম্মদ সানাউল হক : ‘ইলুমিনাতি’ (Illuminati) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন illuminatus থেকে, যার অর্থ ‘আলোকিত’ বা ‘জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তি’। ইতিহাসে ‘ইলুমিনাতি’ নামে একাধিক গোষ্ঠীর উল্লেখ থাকলেও সবচেয়ে পরিচিত সংগঠন হলো বাভারিয়ান ইলুমিনাতি (Bavarian Illuminati)। এটি ১৭৭৬ সালের ১ মে জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ে ইলুমিনাতিকে ঘিরে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এবং প্রচলিত দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তাই ইলুমিনাতি সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে ইতিহাস এবং কল্পকাহিনিকে আলাদা করে দেখা জরুরি। বাভারিয়ান ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন Adam Weishaupt (১৭৪৮–১৮৩০)। তিনি জার্মানির ইনগলস্ট্যাড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানন ল-এর অধ্যাপক ছিলেন। ওয়েইশাউপ্ট আলোকায়ন যুগের (Age of Enlightenment) চিন্তাধারায় প্রভাবিত ছিলেন। তিনি যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান, স্বাধীন চিন্তা এবং কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিতেন। সে সময় ইউরোপে গির্জা ও রাজতন্ত্রের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, যা তাঁর চিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। ১৭শ ও ১৮শ শতাব্দীর ইউরোপ ছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতার সময়। রাজতন্ত্র ও চার্চ সমাজের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করত। অনেক ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল এবং নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা বা ধর্মীয় সমালোচনা গ্রহণযোগ্য ছিল না। এই প্রেক্ষাপটে আলোকায়ন যুগের চিন্তাবিদেরা যুক্তি, শিক্ষা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ইলুমিনাতি সেই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশেরই একটি ফল। ১৭৭৬ সালের ১ মে অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট মাত্র কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সদস্যসংখ্যা ছিল খুবই কম। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষিত মানুষদের একত্রিত করে যুক্তিবাদী সমাজ গঠন, কুসংস্কার দূর করা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করা। এটি প্রথম থেকেই একটি গোপন সংগঠন ছিল। ইলুমিনাতির সদস্যরা বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষা ও যুক্তিবোধের মাধ্যমে সমাজকে উন্নত করা সম্ভব। তারা ধর্মকে পুরোপুরি অস্বীকার করতেন—এমন দাবি ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত নয়। বরং সংগঠনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব এবং অন্ধ অনুসরণের সমালোচনা করত। তাদের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তার বিকাশ। প্রথমদিকে সংগঠনটি দ্রুত বিস্তার লাভ করেনি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষিত ব্যক্তি, আইনজীবী, অধ্যাপক, সরকারি কর্মকর্তা এবং কিছু অভিজাত ব্যক্তি এতে যোগ দেন। ইতিহাসবিদদের মতে, সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ জনের মধ্যে পৌঁছেছিল। এটি কখনোই লক্ষ বা কোটি সদস্যের বৈশ্বিক সংগঠন ছিল না। ইলুমিনাতি সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখার জন্য ছদ্মনাম ব্যবহার করত। অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট নিজেও একটি সাংকেতিক নাম ব্যবহার করতেন। সংগঠনের ভেতরে বিভিন্ন স্তর বা ডিগ্রি ছিল এবং সদস্যদের ধাপে ধাপে উন্নীত করা হতো। এই গোপনীয়তা পরবর্তীকালে সংগঠনটিকে ঘিরে অসংখ্য রহস্য ও গুজবের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেন ইলুমিনাতি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবী শাসন করা। কিন্তু এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। সংগঠনের উদ্ধার হওয়া চিঠিপত্র, নথি এবং সদস্যদের লেখালেখিতে যুক্তিবাদ, শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সংস্কারের কথা বেশি দেখা যায়। ‘বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ’ ধারণাটি মূলত পরে প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অংশ হয়ে ওঠে। ১৭৮০-এর দশকে ইলুমিনাতি কিছু সদস্যের মাধ্যমে ফ্রিম্যাসন লজে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং সেখানে নিজেদের চিন্তাধারা প্রচার করতে চেয়েছিল। এই কারণে অনেক সময় ইলুমিনাতি ও ফ্রিম্যাসনকে একই সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, দুটি আলাদা সংগঠন ছিল। কিছু সদস্য উভয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটিকে অন্যটির সমার্থক বলা সঠিক নয়। ১৭৮৪ থেকে ১৭৮৫ সালের মধ্যে বাভারিয়ার শাসক Charles Theodore গোপন সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইন জারি করেন। এরপর ইলুমিনাতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারি তদন্তে সংগঠনের অনেক নথি জব্দ হয় এবং সদস্যদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহাসিক গবেষণায় সাধারণভাবে এটাই গ্রহণযোগ্য যে, ১৭৮৫ সালের পর বাভারিয়ান ইলুমিনাতি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে একই নামে কোনো সংগঠন বিশ্ব পরিচালনা করছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। বাভারিয়ান ইলুমিনাতি একটি সুসংগঠিত গোপন সংঘ ছিল। এর সদস্যদের ধাপে ধাপে বিভিন্ন স্তরে উন্নীত করা হতো। নতুন সদস্যরা প্রথমে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করতেন, এরপর তাদের জ্ঞান, আনুগত্য ও কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে উচ্চতর স্তরে নেওয়া হতো। এই ধাপভিত্তিক কাঠামো অনেকটা সে সময়ের অন্যান্য গোপন সংঘের মতোই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের তথ্য ও পরিকল্পনা গোপন রাখা। সংগঠনে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। তাদের শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নৈতিক আচরণ মূল্যায়ন করা হতো। অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট বিশ্বাস করতেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য শিক্ষিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একত্র করা প্রয়োজন। তাই সংগঠনে সাধারণ মানুষের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা ও বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। ইলুমিনাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাংকেতিক নাম (Codename) ব্যবহার। অনেক সদস্যই নিজেদের প্রকৃত নামের পরিবর্তে প্রাচীন গ্রিক বা রোমান ইতিহাস থেকে নেওয়া নাম ব্যবহার করতেন। অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট নিজেও ‘Spartacus’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন। এটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য পরিচিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম। এর মাধ্যমে সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি আদর্শিক একটি প্রতীকও তুলে ধরা হতো। সংগঠনটির নিজস্ব চিঠিপত্র, সংকেত, সাংকেতিক শব্দ এবং সাংগঠনিক নথি ছিল। পরবর্তীতে বাভারিয়ান সরকার যখন সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে, তখন এসব নথির একটি বড় অংশ জব্দ করা হয়। আজ ইতিহাসবিদরা ইলুমিনাতি সম্পর্কে যে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানেন, তার বড় অংশই সেই উদ্ধার হওয়া সরকারি নথি, সদস্যদের চিঠি এবং ব্যক্তিগত লেখালেখি থেকে এসেছে। ইলুমিনাতিকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ফ্রিম্যাসনদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। ইতিহাস অনুযায়ী, অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য বিদ্যমান গোপন সংগঠনগুলো কার্যকর হতে পারে। তাই কিছু ইলুমিনাতি সদস্য ফ্রিম্যাসন লজে যোগ দেন এবং সেখানে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে ফ্রিম্যাসন ও ইলুমিনাতি একই সংগঠন ছিল। অধিকাংশ গবেষক এই দুই সংগঠনকে পৃথক হিসেবেই বিবেচনা করেন। ১৭৮০-এর দশকে বাভারিয়ার শাসকগোষ্ঠী গোপন সংঘগুলোর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এসব সংগঠন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইলুমিনাতির দ্রুত সদস্য বৃদ্ধি এবং গোপন বৈঠক সরকারকে সন্দিহান করে তোলে। ফলে সংগঠনটির ওপর নজরদারি শুরু হয়। ১৭৮৪ সালে বাভারিয়ান সরকার গোপন সংঘের বিরুদ্ধে প্রথম আইন জারি করে। এরপর ১৭৮৫ সালে আরও কঠোর আদেশের মাধ্যমে ইলুমিনাতিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সদস্যদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সংগঠনের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকেই ইতিহাসবিদরা বাভারিয়ান ইলুমিনাতির কার্যকর সমাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর অ্যাডাম ওয়েইশাউপ্ট বাভারিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান এবং পরে জার্মানির গোথা অঞ্চলে আশ্রয় নেন। জীবনের বাকি সময় তিনি মূলত লেখালেখি ও দর্শনচর্চায় কাটান। তিনি ১৮৩০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও অনেক লেখক তাঁর চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করেছেন, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি আর আগের মতো সক্রিয় হয়ে ওঠেনি বলে জানা যায়। ইতিহাসে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই যা প্রমাণ করে যে ১৭৮৫ সালের পর বাভারিয়ান ইলুমিনাতি গোপনে টিকে ছিল এবং বিশ্বব্যাপী পরিচালিত হতে থাকে। বরং অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মত হলো, সংগঠনটি সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও সদস্যদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ‘ইলুমিনাতি’ নামটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ব্যবহার

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা, ফরিদগঞ্জ

বিশ্বকাপের আমেজে ফরিদগঞ্জে প্রিমিয়ার সিমেন্টের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ 

তারেক রহমান তারু : ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হলেও তার রেশ যেন এখনও কাটেনি। সেই উন্মাদনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে ফরিদগঞ্জে জমজমাট এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। বুধবার (১২ আগস্ট) ফরিদগঞ্জ এ.আর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এতে মুখোমুখি হয় প্রিমিয়ার সিমেন্টের দুই শক্তিশালী রিটেইলার দল—ফরিদগঞ্জ উপজেলা টিম এবং চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত টিম। সারাদিন কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই কর্মজীবী মানুষগুলো এদিন মেতে ওঠেন ফুটবলের আনন্দে। মাঠে তাদের অনেকের অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপস্থিত দর্শকদেরও মুগ্ধ করে। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াই। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই নির্ধারিত সময়ে বল জালে জড়াতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। এরপর ম্যাচের ফল নির্ধারণে গড়ায় উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৪-১ গোলে জয় তুলে নেয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা রিটেইলার টিম।  জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল সৌহার্দ্য, আনন্দ ও উৎসবের আবহ। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মাঠে উপস্থিত দর্শকরাও উপভোগ করেন প্রাণবন্ত এই ফুটবল ম্যাচ। খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, কবি ও লেখক কেএম নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রিমিয়ার সিমেন্টের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের চাঁদপুর এরিয়া ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান, চাঁদপুর সদর উপজেলার এক্সিকিউটিভ মো. সামজাদ হোসেন, হাইমচর উপজেলার এক্সিকিউটিভ তানভীর ভূঁইয়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক্সিকিউটিভ মো. সাঈদুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার রবিউল পারভেজ ও ডিলার আবদুর রহিম মিয়াজি। ম্যাচে দুর্দান্ত রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ফরিদগঞ্জের দক্ষ ক্রীড়াবিদ জিয়াউর রহমান জিয়া। সবশেষে হাসি-আনন্দ আর ফুটবলের উচ্ছ্বাসকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি ভুলিয়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের এ আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলা ও সৌহার্দ্যের এক আনন্দঘন উৎসবে।

আজকের সংবাদ, খেলাধুলা

আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট

রাকিবুল ইসলাম :  দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচটি চলবে ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা। এর আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলেছিল ২০০৩ সালে। ফলে এই সিরিজকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে। দলে রয়েছেন প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। দীর্ঘ টেস্ট সূচির কথা মাথায় রেখে অস্ট্রেলিয়াকে খেলোয়াড়দের কাজের চাপও সামলাতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস প্রথম টেস্টের জন্য পুরোপুরি ফিট হয়েছেন। ইনজুরি থেকে ফিরে তিনি ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে নতুন বল সামলে প্রথম সেশনে উইকেট ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের বোলিং কম্বিনেশন নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনজন পেসারের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার খেলানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক শান্ত এটিকে দলের একটি খারাপ দিন হিসেবে দেখছেন এবং মূল টেস্টে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। 

আজকের সংবাদ, জনদুর্ভোগ, ফরিদগঞ্জ

এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ, দুই ঘণ্টা বন্ধ—লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ফরিদগঞ্জবাসী

মো. সোহেল রানা :  হঠাৎ দেখা মেলে বিদ্যুতের–কিছু সময় পরে আর দেখা মেলে না। এভাবেই চলতে থাকে দিনে-রাতে। বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে। দিনে-রাতে কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩/৪ ঘণ্টার মতো পাওয়া যায় বিদ্যুৎ। কোনো কোনো এলাকায় একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষী, অটোরিকশাচালক, ছাত্র- ছাত্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।  উপজেলা পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যুৎ সকালে চলে যায় এবং রাত ১০টার ভেতরে মাঝেমধ্যে আসে। এই কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে। কৃষিকাজেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গভীর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি বন্ধ থাকে, এই সুযোগে চুরি ডাকাতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। আগের মতো আবারও লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। সেই আগের মতো লোডশেডিংয়ের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় মাসখানেক ধরে বিদ্যুতের সমস্যা খুব প্রকট হচ্ছে।  সকাল থেকে এক ঘণ্টা বিদুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না, এইভাবে চলতে থাকে। সন্ধ্যার পরে যায় আর আসে রাত ৯টার পর। আবার আধঘণ্টা পরে চলে যায় রাত ১১টার পরে আসে। আবার ১২টার পরে যায়, ফজরের পরে আসে। দিন রাত মিলিয়ে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বদরপুর গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আবুল হাশিম বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট আমরা। দুঃসহ গরমের সঙ্গে দিনে-রাতে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, কোনোরকম টিকে আছি।  এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মোবারক হোসেন সরকার ফরিদগঞ্জ টাইমসকে বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য। ফরিদগঞ্জে ২৩-২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৭-১০ মেগাওয়াট। এ কারণে আমরা চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। অপ্রয়োজনে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিহার এবং বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমার কার্যালয়ের আওতায় মাত্র একটি সাবস্টেশন রয়েছে। প্রয়োজন অন্তত আরও দুটি সাবস্টেশন। একটি সাবস্টেশন থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা লাইনে সমস্যা হলে দূর-দূরান্তের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। কেউ যদি সড়কের পাশে জমি দিয়ে সহযোগিতা করে, তাহলে সাবস্টেশন স্থাপন করাটা সহজ হবে। এছাড়া এই কার্যালয়েও প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি ১০-১২ জনের। সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।” 

আজকের সংবাদ, চাঁদপুর

যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ১৮

চাঁদপুর জেলা প্রতিবেদক : চাঁদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।  মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, নোয়াখালী থেকে যশোরগামী ‘আল-আরাফা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি গাড়িরই সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, হাসপাতালটিতে ১৮ জন আহত রোগীকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা শাহরাস্তিতে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সড়ক স্বাভাবিক করতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

সাহেবগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারকে জামায়াতের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ মে সংঘটিত ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এতে ৫০-এর বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষাকালে এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা প্রদানকালে চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, “আমরা কোনো সরকারি ক্ষমতায় নেই। সংগঠনের উদ্যোগে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।” তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দ্রুত পায়, সে বিষয়েও স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করা হয়েছে।” মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, “চুরি হলে কিছু না কিছু থেকে যায়, কিন্তু আগুনে সবকিছু পুড়ে গেলে আর কিছুই থাকে না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারাই এই কষ্ট সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, নায়েবে আমীর মাওলানা কফিলউদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. তাহের, উপজেলা ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা কাজী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা মো. আবু হানিফ। এ সময় ইউনিয়ন কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য, স্বাগতিক ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, স্বাস্থ্য

সন্তোষপুরে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ও ঔষধ বিতরণ 

​বিশেষ প্রতিবেদক :  বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি) চক্ষু হাসপাতাল, চাঁদপুরের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা, ঔষধ ও চশমা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।  ​আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১:৩০টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এই বিশেষ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ​চক্ষু পরীক্ষা শেষে যেসব শিক্ষার্থীর চোখে সামান্য সমস্যা পাওয়া গেছে, তাদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা প্রদান করা হয়। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর চোখে জটিল বা গুরুতর সমস্যা শনাক্ত হয়েছে, তাদেরকে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।  এসময় চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার মো. আল আমিন, সিনয়র অফথ্যালমিক প্যারামেডিক ও রিফ্রাকশনিস্ট সঞ্চয় কুমার দাস, অফথ্যালমিক প্যারামেডিক (ডিএমএফ) সঞ্জীব চন্দ্র, মেল হেলপার মো. মিলন সরদার, ইমরান হোসেন প্রধান প্রমুখ।  ​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকরা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল চাঁদপুরের এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিশুদের চোখ সুরক্ষায় এ ধরনের সেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা। 

Scroll to Top