বিশেষ প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসাপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে ভাঙচুর চালিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের ইসহাক মিয়ার অসুস্থ স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে (৬৫) ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসাপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসাপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন জানান, রোগী ভর্তির পর থেকে তিনি বেশ কয়েকবার রোগী দেখেছেন। কিডনিজনিত সমস্যার কারণে তার প্রস্রাব হচ্ছে না, ডায়াবেটিসও কম ছিল। এছাড়া অন্যান্য উপসর্গ যেগুলো নিয়ে ভর্তি হয়েছে- সেগুলো তো ছিলই। আমরা ভোরে রোগীকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদেরকে বলেছিলাম। সকালে তার মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।
হাসপাতালের মালিক ডা. সাদেকুর রহমান বলেন, আমি সকালে রোগীর মৃত্যুর কথা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখেছি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি কেন একজন রোগীকে আটকে রাখব। আমাদের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। এই হাসপাতালে যতটুকু সম্ভব রোগীকে ততটুকু চিকিৎসা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী জানান, রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের কথা জেনে আমরা পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসাপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে আসি। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সাবেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এসে আমাদের সহায়তা করেছেন।
