৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Author name: Farhad Nurul

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

ফরিদগঞ্জে শিক্ষা ও রাজনীতির আলোকবর্তিকা সিরাজুল হক বিএড-এর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রুহুল আমিন খাঁন স্বপন : ফরিদগঞ্জের শিক্ষা ও রাজনীতির অঙ্গনে এক অবিস্মরণীয় নাম সিরাজুল হক বিএড। আজ ১২ রমজান, মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সংগঠকের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে মরহুমের নিজ বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সিরাজুল হক বিএড কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক ও রাজপথের সাহসী লড়াকু সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধে ১৯৪৬ সালের ২০ মে ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ত্রিদোনা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগ্রাম কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কালির বাজার মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সংগঠনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন অনবদ্য। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলের দুঃসময়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আজও প্রশংসিত। স্বাধীনতার পর ৫নং গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জনগণের সেবা করেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত ২০১৩ সালের (১৪৩৪ হিজরী) ১২ রমজান ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে এক আধ্যাত্মিক আবহে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্ত্রী রোকেয়া বেগমের জন্য দোয়া ও মোনাজাতরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। “শিক্ষক সমাজে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সমাদৃত। শিক্ষা ও রাজনীতির সমান্তরাল পথচলায় তিনি ফরিদগঞ্জবাসীর কাছে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। মরহুমের একমাত্র ছেলে ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. মশিউর রহমান মিটু তাঁর পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং দোয়া মাহফিলে শরিক হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

বিএনপির কোন কর্মীর গায়ে হাত দিলে তকে ফরিদগঞ্জ ছাড়া করা হবে……সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ

রুহুল আমিন খান : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেছেন, ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ তথা বিএনপিকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কে কিভাবে কী করেছে, তা আস্তে আস্তে সব বেড়িয়ে আসছে। কারচুপি করা হয়েছে। এছাড়া কারা দলের সাথে বেঈমানি করেছে, প্রতীকের ধানেরশীষের সাথে মুনাফেকি করেছে, তারা চিহ্নিত। আর কারা নির্বাচনের আগে নিজের কেন্দ্রে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবেন বলে বড়ো বড়ো কথা বলেছেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন তারাও চিহ্নিত। তাই তারা সর্তকও সাবধান হয়ে যান।তারেক রহমানের বিএনপির কোন কর্মীর গায়ে হাত দিলে তকে ফরিদগঞ্জ ছাড়া করা হবে। এতদিন সহ্য করেছি, আর সহ্য করবো না।ফরিদগঞ্জে দলকে নতুন ভাবে সাজানো হবে। যারা ব্যর্থ, তাদের পরিবর্তে ত্যাগী ও পরিক্ষিত এবং যারা দলের জন্য সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত তাদের নিয়েই ফরিদগঞ্জের আগামীর বিএনপি পথচলা শুরু হবে। বিএনপির প্রতি যারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থান বিএনপিতে হবে না।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথাগুলো বলেন।উপজেলা সদরের মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাবকে যুহ্মআহ্বায়ক আব্দুল খালেক পাটওয়ারীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, মজিবুর রহমান দুলাল, ঢাকা তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি লায়ন মো. আল আমিন প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক মহসীন মোল্লা, ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির পাটওয়ারী, সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, পৌর বিএনপির বিল্লাল হোসেন কোম্পানী, টুটুল পাটওয়ারী, হাবিবুর রহমান রুবেল, আব্দুল মতিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাছির আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আজকের সংবাদ, ইসলাম, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জ টাইমসের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান

ইয়াছিন পালোয়ান : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ফরিদগঞ্জ টাইমস-এর উদ্যোগে ওয়ান স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট-এর তৃতীয় তলায় ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জবাসীর সুখ-দুঃখ, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার খবর তুলে ধরে আসছে ফরিদগঞ্জ টাইমস। স্থানীয়রা জানান, অন্য নিউজ মাধ্যমের তুলনায় ফরিদগঞ্জ টাইমস বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আলাদা স্থানে দাঁড়িয়েছে, যার কারণে এটি এখন ফরিদগঞ্জ উপজেলার সংবাদ পাঠকদের কাছে বিশেষ আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ টাইমসের প্রকাশক ইমাম হোসেন সৌরভ, সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ, সিইউ ফরিদ আহমেদ, নির্বাহী সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা সম্পাদক মানিক পাঠানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, আল আমিন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং ফরিদগঞ্জবাসির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজুর রহমান।ফরিদগঞ্জ টাইমস এর সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ জানান, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশনই ফরিদগঞ্জ টাইমসের মূল লক্ষ্য।

আজকের সংবাদ, ইসলাম, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, শিক্ষা ও সাহিত্য

কারুকার্যখচিত ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ

নুরুল ইসলাম ফরহাদ :‘রূপসা জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ’, যার মূল নাম বা অফিসিয়াল নাম ‘মসজিদে নূর’। যদিও এই নামে কেউ চিনে না। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজারে অবস্থিত ‘মসজিদে নূর’। ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমীদারদের পারিবারিক কবরস্থানের পাশে দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুচারু কারুকার্যখচিত মসজিদটি প্রায় ২০০ বছর পূর্বে নির্মাণ করেন জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী।মেঘনা পাড়ের বৃহত্তর জমিদারী যিনি প্রতিষ্ঠা করেন তিনিই ‘মসজিদে নূর’ মসজিদটি ১২৮৪ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শণ। মসজিদ গেটের পাশেই শ্বেত পাথরে ফার্সি ভাষায় লেখা রয়েছে নির্মাতার নাম ও নির্মাণকাল। মসজিদটির আয়াতন ৪৭/৪০ ফুট। এর সামনের অংশে রয়েছে ৫৩/৩০ ফুট দেয়ালবেষ্টিত চত্বর। মসজিদটির ছাদের সামনের অংশে রয়েছে ৩টি বড় গম্বুজ। মার্বেল পাথরের ঢালাই করা সুশোভিত মসজিদটিতে রয়েছে ছোট বড় মোট ৩৯টি গম্বুজ। অনিন্দ্য সুন্দর, শৈল্পিক আঁচড়ে তৈরী রূপসা জামে মসজিদটি তৎকালিন বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।মসজিদের পশ্চিম পাশে শানবাঁধানো ঘাটসহ একটি দীঘি রয়েছে। সে দিঘীতে মুসল্লিদের জন্য ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। চাহিদার প্রেক্ষিতে পরর্তীতে মূল মসজিদ অক্ষুন্ন রেখে ৩য় বারের মতো আয়াতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে আনুমানিক ৫০০ শত মুসল্লি একসাথে নামাজ পড়ে। তবে রমযান মাসে ২/৩ শ’ মানুষ আরো বেশী হয়।দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবদুর রহমান। মসজিদের দেখা শোনা বা দায়িত্ব পালন করছেন জমীদারদের উত্তরসূরী ‘মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ফাউন্ডেশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেহেদী হাসান চৌধুরী।

Scroll to Top