ফরিদ আহমেদ মুন্না: মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিক ও ওমরাযাত্রীদের বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে চড়া দামে বিক্রি করায় চরম ভোগান্তির কবলে পড়েছেন যাত্রীরা। এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধ, পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া বাল্ক টিকিট বিক্রি, এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও মজুদদারি বন্ধের দাবি জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল অ্যাজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।
বিদেশগামী শ্রমিকদের স্বস্তি দিতে বাল্ক টিকিট বিক্রি ও মজুদদারি বন্ধ করে টিকিটের দাম নির্ধারণে এবং এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে বেবিচকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আটাবের সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ।
আজ রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও এয়ারলাইন্স কর্তৃক যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়া বাল্ক টিকেট বিক্রি ও মজুদদারি বন্ধ করার দাবিতে আয়োজিত একসংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।লিখিত বক্তব্যে আটাব সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহনখাতে চলমান অন্যতম বড় সমস্যা এয়ার টিকিটের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণ নামবিহীন গ্রুপ টিকেট বুকিং।
কতিপয় মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইন্সতাদের পছন্দের কিছু এজেন্সির (সিন্ডিকেট) নামে কোনো পাসপোর্ট, ভিসা, ভ্রমণ নথিপত্র, এবংপ্রবাসগামী শ্রমিকদের কোনো প্রকার বৈদেশিক ওয়ার্ক পারমিট এমনকি যাত্রী তালিকা ছাড়াইশুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন রুটের গ্রুপ সিট দুই-তিন মাস অগ্রিম তারিখের পিএনআর তৈরি করে সিট ব্লক করে রাখে।
এভাবে টিকিট মজুদদারি করা হয় যার ফলে সিন্ডিকেট তৈরি হয়, আসন সংকট দেখা দেয়, টিকিট মূল্য ২০ থেকে ৫০ শতাংশ, কখনও দ্বিগুণ তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং বিদেশগামী শ্রমিক, স্টুডেন্ট, প্রবাসীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।গ্রুপ টিকিট বন্ধ করা হলে বিমানের টিকিট সংকট যেমন দূর হবে তেমনই কমবে টিকিটের দাম।সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আটাবের পক্ষ থেকে ১৫টি সুপারিশও উত্থাপনকরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আটাব মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক মহাসচিব জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু, যুগ্মমহাসচিব আতিকুর রহমান, উপমহাসচিব তোয়াহা চৌধুরী, অর্থসচিব মো. সফিক উল্যাহ নান্টু, হাবের সাবেক মহাসচিব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, বায়রার সাবেক শীর্ষ নেতা মো. ফখরুল ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনে আকাশপথে টিকিটের নৈরাজ্য রোধে কতিপয় দাবি পেশ করা হয়, সিডিউলফ্লাইট বৃদ্ধি করা, অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দ্রুত অনুমোদন দেওয়া ও ওপেন স্কাইঘোষণা করা যেন সব দেশের এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করতে আগ্রহী হয়।
এয়ারলাইন্সের টিকিটবিক্রির ক্ষেত্রে নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, ভিসা, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স ব্যতীত কোনো বুকিং করাযাবে না, সিট ব্লকের মাধ্যমে ফ্লাইটের ইনভেন্টরি ব্লক হয়ে যায়, যে কারণে মূল্য বাড়তে থাকে। এছাড়া কোনো ট্রাভেল এজেন্সির কাছে প্রকৃত চাহিদা না থাকলেও এয়ারলাইন্সের কাছে দুই লাইনেরএকটি ইমেইল করে কৃত্রিম ডিমান্ড তৈরি করে।
কৃত্রিম ডিমান্ডের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে এয়ারলাইন্সের ভ্রান্ত পলিসির কারণে। ট্রাভেল এজেন্সিদের কাছে ডিমান্ড না থাকা সত্ত্বেও পণ্য মজুতকরার মতো এয়ার টিকিট মজুত করছে দেদারসে। এটা বন্ধ করতে হবে।
