নিজস্ব প্রতিনিধি: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, একুশের কবিতা আবৃত্তি, বই পর্যালোচনা, সনাতনী ধারার ও বারোয়ারী বিতর্ক, স্থানীয় কবি সাহিত্যিকদের (যাদের প্রকাশিত বই রয়েছে) সস্মাননা এবং বই ক্রেতাদের বিশেষ পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ফরিদগঞ্জে অমর একুশে বই।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বছর ৪ দিন ব্যাপী বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) বিকালে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রাত ৯টায় মেলার কার্যক্রম সমাপ্তিও করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেন,‘একুশ আমাদের গর্বের ইতিহাস। একুশ কে তাই শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয়। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না। মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা জাগ্রত করে বই। অমর একুশে বই মেলাটি যদি ৭/১০ দিন ব্যাপী করতে পারতাম ভালো লাগতো। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আশা করি সবার সহযোগিতা থাকলে বিশেষ করে ফরিদগঞ্জের পুস্তক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় আগামীতে আমরা আরো বড় পরিসরে বই মেলা করতে পারবো। এবার যে টুকু হয়েছে তার কৃতিত্ব দিতে হবে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সেক্রেটারি ও ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম ফরহাদ সাহেবকে। কারণ তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং আগ্রহের কারণে বই মেলাটি হয়েছে।’
৪ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মালার মধ্যে প্রথম ও শেষ দিন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র পরিবেশনায় ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২য় দিন স্থানীয় কবিদের স্ব-রচিত কবিতা পাঠ, ৩য় দিন একুশের কবিতা আবৃত্তি ও বই পর্যালোচনা, ৪র্থ দিন বিকালে ছিলো সনাতনী ধারার বিতর্ক। বিতর্কে অংশ নিয়েছেন ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও গৃদকান্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ। বিতর্কের বিষয় ছিলো ‘শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে অভিভাবকের চেয়ে শিক্ষকের গুরুত্ব অধিক।’ পক্ষ দল ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ, বিপক্ষ দল গৃদকান্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ। আড়াই পয়েন্টের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয় ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় গৃদকান্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের দল নেতা সুমাইয়া জাহান।
সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম ফরহাদ, মডারেটর শামিম শেখ, বিচারক ফয়সাল তাহসান ও আনিছুর রহমান। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বারোয়োরী বিতর্ক। বিষয় ছিলো ‘আমার পেশায় আমি সেরা। এতে অংশ গ্রহণ করেন ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ। বিতর্কের সভাপ্রধান ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া, মডারেটর ছিলেন নুরুল ইসলাম ফরহাদ। বিতর্কে অংশ নেন ডাক্তার শামিম শেখ, ব্যাংকার ফয়সাল তাহসান, শিক্ষক আনিছুর রহমান, ঘটক তারেকুর রহমান তারু, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার জহির আহমেদ সাজিদ, পুলিশ মোবারক করিম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে চিত্রাংকন, হাতের সুন্দর লেখা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও উপজেলা পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান’র সৌজন্যে স্থানীয় পর্যায়ে যাদের প্রকাশিত বই রয়েছে সে সকল কবি সাহিত্যিকদের সম্পাননা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে অমৃত ফরহাদ, দন্তন্য ইসলাম, পাভেল আল ইমরান, নুরেজ্জামান, মো. নাছির উদ্দিন, রাসেল ইব্রাহিম, ইলিয়াস বকুল, কাব্য রাত্রি, তৃপ্তি মনি ও সাহেদ বিন তাহেরকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও সিটি লাইব্রেরি স্টল থেকে যে সকল ক্রেতা বই ক্রয় করেছেন তাদের প্রত্যেককে একটি টোকেন প্রদান করা হয়। মেলা শেষে সেসব টোকেন থেকে লটারির মাধ্যমে ৫ জন বই ক্রেতাকেও পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিতর্ক পর্বের পুরস্কার প্রদান করা হয় ইউএস ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন “ওয়ান লাইট ফাউন্ডেশন” র প্রতিষ্ঠাতা নুর সারা কাদির এর সৌজন্যে।
নবীন, প্রবীন লেখকদের বইয়ের সমারোহে মেলা ছিলো উৎসবমুখর। প্রতিদিনই ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মানুষের আগ্রহ ছিলো চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আর. এম জাহিদ হাসান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ওয়ালী উল্যাহ, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, ফরিদগঞ্জ পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অন্যন্যা নারী কল্যাণ সংর্ঘের সভাপতি রাবেয়া আক্তার প্রমুখ।
