১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


২৬৩ চাঁদপুর- ৪ ফরিদগঞ্জ আসনটি সঙ্গত কারণে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মূলত হেভীওয়েট প্রার্থী ৩ জন। তাদেরই একজন এম.এ হান্নান। তিনি মূলত বিএনপির ঘরের লোক হলেও বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা বিএনপির হাল ধরে রেখেছেন। এছাড়া সামাজিক এবং মানবিক কাজ করে এলাকায় আলাদা একটা অবস্থান করে নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ফরিদগঞ্জ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা বলেছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ’র সাথে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : আপনি কি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?
এম.এ হান্নান : সুষ্ঠু নির্বাচন কোথায় হতে যাচ্ছে? আমরা বার বার অভিযোগ দিচ্ছি প্রশাসনকে, সেনাবাহিনীকে। কিন্তু আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছিনা। আমাদের অফিসে হামলা হয়েছে, আমাদের প্রচার কার্যের অটো রিক্সা ভেঙ্গে ফেলেছে, আমাদের নেতা কর্মীদের হুমকী দিচ্ছে। সরকার বলেছে সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড করবে কিন্তু এখনো তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি আশাবাদী কাস্টিং ভোটের ৬০ পার্সেন্ট ভোট পেয়ে আমি বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিবে?
এম.এ হান্নান : আমি ১৯৯১ সাল থেকে দলের সাথে ছিলাম। দীর্ঘদিন ফরিদগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করেছি। মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। তাই আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব কতটুকু?
এম.এ হান্নান : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব আছে। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে এ দেশে আর স্বৈরাচার সৃষ্টি হবে না।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতটুকু পরিবর্তণ হয়েছে?
এম.এ হান্নান : রাজনীতিবিদদের চিন্তা চেতনা যতদিন পর্যন্ত পরিবর্তন না হবে ততদিন পর্যন্ত প্রকৃত গণতন্ত্র, গুণগতমান পরিবর্তন হবে না। আমি আশা রাখি এটা হবে। একসময় হয়তো নতুন প্রজন্মই গুণগত পরিবর্তনটা নিয়ে আসবে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?
এম.এ হান্নান : উন্নত রাষ্ট্রের যেমন উন্নত নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে; আমাদের দেশেও সেটা হবে; যদি আমাদের রাজনীতিবিদদের মনমানসিকতা ঐ রকম হয়। একটি শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থাই পারে সুষ্ঠু এবং দল নিরপক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সমাজে প্রচলিত আছে- জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতটুকু সত্য?
এম.এ হান্নান : একজন পিতাও তার সব সন্তানের কথা রাখতে পারেনা। আমাদের রাষ্ট্র গরিব যতটুকু সম্ভব ততটুকুই করবে। তবে এমপিদের মনমানসিকতা যদি ভালো হয় তাহলে আরো ভালো কাজ করা যায়। দলের নমিশেন আনতে দলের পিছনে অর্থ খরচ করতে হয়। নির্বাচন করতে আরো অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই তারা তাদের ঐ অর্থ উঠাবার জন্য অস্ত্রির হয়ে যায়। সে জন্য জনগণের কাজ আসলে খুব কম হয়। নিজের ফিকিরে তারা ব্যস্ত থাকে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : আপনি দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এই চ্যালেঞ্জ কেন নিলেন?
এম.এ হান্নান : দলের বাহিরে গিয়ে আমি নির্বাচন করছি না। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি নির্বাচন করছি। যে ব্যক্তি পর পর দুই বার আমাকে নির্বাচন করতে দেয় নাই। মামলার মাধ্যমে আমাকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : দীর্ঘদিন দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন, উপজেলার সব কমিটি আপনার ছিলো। নিয়মিত দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি সামাজিক এবং মানবিক কাজের বহু উদাহারণ সৃষ্টি করেছেন। তারপরও দল আপনাকে প্রতীক দিলো না কেন?
এম.এ হান্নান : দল আমাকে প্রতীক কেন দিলোনা তা দলই ভালো বলতে পারবে। আমি বিশ্বাসী ছিলাম জনাব তারেক রহমানের বিবৃতি এবং বিবিসির সাক্ষাৎকার অনুযায়ী আমিই একমাত্র দলের (ফরিদগঞ্জ) প্রতীক পাওয়ার কথা ছিলো। যিনি এই অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন হয়তো তিনি ভালো করে খোঁজ খবর নেননি, উনি (হারুনুর রশিদ) হয়তোবা অতিরিক্ত তেলমালিশ করেছেন তাই আমাকে দেয়নি।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : কিসের ভিত্তিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করে?
এম.এ হান্নান : আমি দল সম্পর্কে বলতে চাই না। বিএনপি কিসের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করেছে সেটা জনাব তারেক রহমান সাহেব বলেছেন কিন্তু সেই ভিত্তিতে হয়েছে কিনা সেটা আমার লিডার জনাব তারেক রহমান জানেন এবং উনিই বলতে পারবেন।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : বার বার আপনি হারুনুর রশিদের কৌশলের কাছে হেরে যাচ্ছেন কেন?
এম.এ হান্নান : তার কৌশলের কাছে আমি হেরে যাইনি। ঐ ব্যক্তি ফ্যাসিবাদ সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে। আমার জনপ্রিয়তা দেখে ফ্যাসিবাদ সরকার তাকে সাহায্য করেছে। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে আমার মনোনয়ন স্থগিত করে দিয়েছে। ২০০৮ এ সরাসরি মামলা করেছে। ২০১৮ তে স্থগিত করে দিয়েছে, যদিও আমি কোনো ঋণ খেলাপি ছিলাম না।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : শিল্প উন্নয়ন বলতে ফরিদগঞ্জে তেমন কিছুই নেই। আপনি বিজয়ী হলে শিল্প উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি না?
এম.এ হান্নান : আমি যদি বিজয়ী হই, আমার দ্বারা যদি সরকারিভাবে গ্যাস আনা সম্ভব হয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন করতে পারি তাহলে অব্যশই আমি ফরিদগঞ্জে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। সেটা হোক কুঠির শিল্প অথবা গার্মেন্টস শিল্প।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে রেল যোগাযোগ নেই, নেই গ্যাস। যা শিল্প উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
এম.এ হান্নান : রেল যোগাযোগ সম্ভব হবে কিনা জানিনা, যেটা সম্ভব না সেটা নিয়ে কথা বলবো না। তবে চেষ্টা করলে গ্যাস আনা সম্ভব। আমাদের পাশের দু’টি উপজেলাতেই গ্যাস রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে ফরিদগঞ্জে গ্যাস আনতে সক্ষম হবো।
নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ?
এম.এ হান্নান : আপনাকেও ধন্যবাদ। খোদা হাফেজ।

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728  
Scroll to Top