শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা নিজ হাতে সেলাই করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধান শিক্ষক নাইলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষকতা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা, মমতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও যে একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে, তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাইলা ম্যাডাম। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এক কোমলমতি শিক্ষার্থীর গায়ের জামা ছেঁড়া দেখতে পেয়ে নিজেই সুঁই-সুতো হাতে নিয়ে তা সেলাই করে দেন তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্ব ও বিদ্যালয় পরিচালনার ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীর প্রতি তাঁর এমন মমতাপূর্ণ আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার সময় এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা তাঁর নজরে আসে। বিষয়টি দেখে অপেক্ষা না করে নিজেই সেলাইয়ের কাজে বসে যান তিনি। একজন প্রধান শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীর প্রতি এমন আন্তরিকতা ও মাতৃসুলভ ভালোবাসা উপস্থিত সহকর্মীদেরও মুগ্ধ করেছে। বিদ্যালয়ের এক সহকর্মীর আবেগঘন বর্ণনায় উঠে এসেছে, নাইলা ম্যাডাম প্রতিদিন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে সেদিন তাঁকে দেখা গেছে এক ভিন্ন রূপে। হাতে সুঁই-সুতো আর কাঁচি নিয়ে পরম মমতায় শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করে দিচ্ছেন তিনি। ওই সহকর্মী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকরা সাধারণত শিক্ষার্থীদের বই-খাতার পাঠ শেখান। কিন্তু নাইলা ম্যাডাম কোনো বক্তব্য না দিয়েই সেদিন শিখিয়েছেন মনুষ্যত্ব, মানবিকতা ও ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ। তাঁর এমন সহকর্মী হতে পারাকে জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আমাদের সমাজে মানুষের নেতিবাচক দিকগুলো যতটা দ্রুত প্রচার পায়, ইতিবাচক কাজগুলো ততটা গুরুত্ব পায় না। অথচ এমন ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগই মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। একজন শিক্ষকের হাতে শুধু কলম বা বই নয়, কখনো কখনো সুঁই-সুতোও হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসার প্রতীক। নাইলা ম্যাডামের এই উদ্যোগ যেন সেই মানবিক শিক্ষারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

