১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

ফরিদগঞ্জে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

রুহুল আমিন খান স্বপন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের পক্ষে জোরদার প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা। ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, প্রশিক্ষণবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক এইচ এম সাইফ আলি খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম আবিদ। আয়োজকদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় উন্নয়ন-প্রত্যাশা তুলে ধরতেই এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

বিগত শাসকরা দেশের জনগণকে শাসনের নামে প্রতারিত করেছে… অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন 

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: ইসলামের নাম ব্যবহার করে এবং যারা ইসলামী আইনে দেশ পরিচালনা করতে চায় না, তারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষকে বারবার ধর্ম ও শাসনের নামে প্রতারিত করা হয়েছে, এবার সেই প্রতারণার রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। ফরিদগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের জনসভায় একথা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আল্লামা মুকবুল হোসাইনের সমর্থনে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, গত ৫৪ বছরে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই জনগণের দেওয়া ভোটের প্রকৃত মূল্যায়ন হয়নি। নির্বাচনে বিজয়ী দল ও রাজনীতিবিদরা বারবার অনিয়ম, দুর্নীতি ও শোষণের রাজনীতিতে লিপ্ত থেকেছে। ফলে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার রাজনীতি নয়, নীতির রাজনীতি করতে চায়। এদেশে পরিপূর্ণ ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলাই ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য। জনসভায় তিনি বলেন, যারা এতদিন শাসনের নামে ইসলামের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জনগণকে এবার তাদের রুখে দিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে সেই বার্তা স্পষ্ট করতে হবে। অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন আরও বলেন, যে দেশে ৭০ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে এবং প্রায় ২২ লাখ আলেম-ওলামা দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত, সে দেশে ইসলামী আইন ছাড়া অন্য কোনো শাসনব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। ইসলামী আইনই এ দেশের ভবিষ্যৎ, এর কোনো বিকল্প নেই। একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা হচ্ছেন পীর সাহেব চরমোনাই। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক আল্লামা মুকবুল হোসাইন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাকসুদুর রহমান এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

রাজনীতিতে প্রয়োজন ভালো মানুষ এবং মেধাবী মুখের…মুনীর চৌধুরী

গণফোরা এর কার্যক্রম ফরিদগঞ্জে তেমন একটা চোখে পড়ে না। উপজেলা কমিটি থাকলেও নেই পৌর বা ইউনিয়ন কমিটি। সাংগঠনিক কার্যক্রমহীন দলের করুণ অবস্থা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর- ৪ ফরিদগঞ্জ আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। দল অপরিচিত (কার্যক্রম) হলেও প্রার্থী দিয়েছে পরিচিত। ফরিদগঞ্জে অবস্থিত গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুনীর চৌধুরী। ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ এর মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর প্রতীক উদীয়মান সূর্য।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : আপনি কি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?মো. মুনীর চৌধুরী : আমি যেহেতু নির্বাচন করছি, বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশাতো থাকবেই।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিবে?মো. মুনীর চৌধুরী : গত ৩২ বছর ধরে গণফোরাম করে আসছি। গত ৫০ বছর ধরে রাজনৈতিক যে ধারা চলে আসছে, সেখান থেকে বের হয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ। দেশের সবগুলো সেক্টরে অন্যান্য দেশ থেকে পিছিয়ে আছে। হানাহানি মারামারি দেশের মানুষও পছন্দ করেনা আমার দলও করেনা। তাই জনগণ আমাদেরকে সমর্থন করবে।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব কতটুকু?মো. মুনীর চৌধুরী : স্বৈরাচার পতনের পর জুলাই যোদ্ধারা এ জাতিকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছে তা বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটে সমর্থন দিতে হবে। আমাদের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা তা মোটেই জনবান্ধব নয়। বস্তা পঁচা এই কাঠামো মেরামতে হ্যাঁ ভোটের বিকল্প নেই।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতটুকু পরিবর্তণ হয়েছে?মো. মুনীর চৌধুরী : তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সাথে যে সম্পৃক্ততা থাকার কথা সেটা নেই। তাদের শুধুমাত্র নির্বাচনের সময়ই দেখা যায়। সংসদ সদস্যদের মূল কাজ হলো দেশের আইন প্রনয়নে ভূমিকা রাখা। আমাদের এই কাঠামোতে তা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। রাজনীতিবিদরা শুধুমাত্র তাদের এবং দলের আর্থিক উন্নয়ণ করেছেন।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?মো. মুনীর চৌধুরী : অবশ্যই একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। একটি স্বাধীন নির্বাচনী কাঠামো তৈরী করা উচিত। কারণ ক্ষমতাশীনরা তাদের মতো করে আইন করে। কখনো দলীয় সরকারের অধীনে, কখনো তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হয়। এভাবে সুষ্ঠু এবং দল নিরপক্ষ নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তারা স্বাধীন না।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সমাজে প্রচলিত আছে- জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতটুকু সত্য?মো. মুনীর চৌধুরী : এটা অনেকাংশে সত্য। আমাদের মানব চরিত্রই হলো ভুলে যাওয়া।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি কেমন লাগছে?মো. মুনীর চৌধুরী : শিক্ষকতা পেশা হলো মানবিক পেশা। সম্মানী পেশা। এ পেশার উপরে কোনো পেশা নেই। মানুষ গড়ার পেশা শিক্ষকতা। রাজনীতি হলো একেবারে ভিন্ন একটা বিষয়। রাজনীতি মানে রাজার নীতি নয়, রাজনীতি হলো নীতির রাজা। আমি মনে করি সমাজের ভালো মানুষগুলো রাজনীতিতে আশা দরকার। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির জন্য প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। রাজনীতিতে প্রয়োজন মেধাবী মুখের।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : উদিয়মান সূর্য চেয়েছেন নাকি দিয়েছে?মো. মুনীর চৌধুরী : আমি উদিয়মান সূর্য চাইনি, দল আমাকে দিয়েছে।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : ফরিদগঞ্জে গণফোরামের কত পার্সেন্ট ভোট রয়েছে?মো. মুনীর চৌধুরী : এটা বলা কঠিন। গণসংযোগে গেলে মানুষের সাড়া পাই কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : উপজেলায় গণফোরামের কমিটি এবং কার্যক্রম আছে?মো. মুনীর চৌধুরী : হ্যাঁ, উপজেলায় গণফোরামের কমিটি এবং কার্যক্রম আছে।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ?মো. মুনীর চৌধুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

১২ ফেব্রুয়ারি চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে জবাব দিবেন — এম.এ. হান্নান

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থনে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে খাজুরিয়া বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের সঞ্চালনায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ এম.এ. হান্নান। বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত হননি; তবে নিজের দলের কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তাকে মর্মাহত করেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্তে যদি তার কোনো দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অন্যায় করে থাকে তবে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর ওপর চাপানো ঠিক নয়। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি আপনারা মনে করেন আমি নির্দোষ, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি চিংড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দিন।” তিনি আরও বলেন, চিংড়ি প্রতীক আমার একক প্রতিক না, এটা আপনাদের অধিকার বাস্তবায়নের প্রতিক। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সফিউল বাশার মুকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমানত গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক পাটওয়ারী মহান ও ইকবাল হোসেন। জনসভায় প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

Scroll to Top