১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, ফিচার, বিশেষ সংবাদ, মতামত, রাজনীতি, সম্পাদক

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে যিনি ফরিদগঞ্জকে সাজাতে পারবেন ভোট তার

নুরুল ইসলাম ফরহাদ :১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, শঙ্কা, উদ্বিগ্ন আর প্রত্যাশার স্বপ্নে সাধারণ ভোটাররা বসে আছে ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট প্রদানে বঞ্চিত ছিলো। তাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। যথা সময়ে ভোট হবে না এই শঙ্কার কারণেই ভোট প্রদানের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ফরিদগঞ্জ বাসীর প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা অনেক।ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে গ্যাস নেই। যা উন্নত জীবন ব্যবস্থার অন্যতম একটি মাধ্যম। নেই রেল যোগাযোগ। আধুনিক নগরায়নের পূর্ব শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ। যা ফরিদগঞ্জে নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাজুক। স্বাস্থ্য খাত রুগ্ন। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। শিশু পার্ক এবং বিনোদন পার্ক নেই। প্রশাসনিক সেবা নিতে সাধারণকে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দক্ষ যুব শক্তি গড়ার ক্ষেত্রে নেই কোনো প্রতিষ্ঠান। যে প্রার্থী স্থায়ীভাবে এসব উন্নয়ন করবে ভোটাররা তার সাথে আছে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা যে দিবে এবং শুধু শুধু হয়রানি বন্ধে যে কাজ করবে, ভিন্ন মতকে যে সহ্য করতে পারবে আগামী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তাকেই ভোট দিবে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের চায়ের দোকানের আড্ডায় মানুষের সার কথা এটাই।কয়েকশ’ বছরের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় আজকের এই ফরিদগঞ্জ। অনেকটা অগোছালো, অপরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন। বর্তমানে উপজেলাবাসী কিছুটা হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে হয়তোবা আগামী কয়েক দশক পরে এক স্বপ্নীল ফরিদগঞ্জ দেখবে জনগণ। যদি প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিগণ সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যান এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ১০০/২০০ বছরের একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে পারেন, অন্যরকম এক ফরিদগঞ্জ দেখতে পারবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বিশ্বের উন্নত শহর গুলোতে ৫০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড করে থাকে। কোনো এলাকা উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। তিন/চার লেন রাস্তার পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে। ভবন তৈরির ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।সচেতন ভোটারদের অভিমত, ‘ফরিদগঞ্জের দুর্ভাগ্য এখানে সে অর্থে তেমন কোনো উন্নয়নই হয়ানি। চাঁদপুর জেলার প্রায় সবগুলো উপজেলায় গ্যাস আছে, রেল লাইন আছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা আছে কিন্তু আমাদের এখানে কি আছে? ফরিদগঞ্জ সদরের রাস্তা দেখলেই বুঝা যায় উপজেলার হাল। ‘কচুয়ায়, মতলব, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সদরের এমপিরা মন্ত্রী হয়। ফরিদগঞ্জে এম.এ মান্নান ছাড়া আর কোনো এমপি মন্ত্রী হতে পারেননি। অতএব যোগ্য লোককেই এমপি বানাতে হবে। যে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবে। নিজ এলাকার জন্য বরাদ্ধ নিয়ে আসতে পারবে।’বিগত দিনে ফরিদগঞ্জে গতানুগতিক উন্নয়ন ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। যে প্রার্থী সংসদে গিয়ে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে একথা গুলো বলতে এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবে। ফরিদগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী একটি রেল এবং গ্যাস সংযোগ। এখানে গ্যাসবিহীন আধুনিকতা কল্পনাও করা যায় না। উপজেলায় গ্যাস সংযোগ মানুষের প্রাণের দাবী। বেড়ী বাঁধের কারনে উপজেলাবাসী নৌ পথের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যদি এখানে বেল লাইনের সংযোগ থাকতো, তাহলে ফরিদগঞ্জও একটি ব্যবসায়ী জোন হতে পারতো। সড়ক পথের যাত্র অনেক। ব্যবসায়ীদের দাবী ফরিদগঞ্জে রেল লাইন হোক। যে প্রার্থী বিনোদনের সাথে, তরুণ ভোটাররা তার সাথে। যান্ত্রিকতা থেকে বেরিয়ে এসে একটু ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে মানুষ বিনোদন চায়। বিনোদনকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক- খেলা। দুই- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিনেমা, নাটক। তিন- রাইডসহ পার্ক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডীত ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনাকে সংস্কার করে সেখানেও পার্ক গড়ে তোলা যায়। ফরিদগঞ্জে মোটামুটি মানেরও কোনো খেলার মাঠ নেই। যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়েরা নিয়মিত খেলতে পারে।ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান বলেন,‘ফরিদগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়নসহ যিনি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন, গণমানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এমন প্রার্থীকেই আমরা প্রত্যাশা করি।’ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সভাপতি ফরিদ আহমেদ মুন্না বলেন,‘যে বিষয়গুলো আমাদের প্রয়োজন, আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে যিনি ফরিদগঞ্জকে সাজাতে পারবেন, আমাদের দাবীদাওয়া মিটাতে পারবেন, বিশেষ করে তরুণরা তাকেই ভোট দিবে। সত্যিকার অর্থে সংসদে গিয়ে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের পক্ষে জোরালো দাবী রাখতে পারবেন, তরুণদের মনের কথা বুঝতে পারবেন এবং ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারবেন ভোট তার।’

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

ধানের শীষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের সংবাদ সম্মেলন

কেএম নজরুল ইসলাম : চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান ধানের শীষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধা ৭টায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান বলেন, আমি পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ৬নং গুপ্টি ইউনিয়নের হুগলি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় যাই। সেখানে ধানের শীষ প্রার্থীর কর্মীরা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর তেড়ে আসে। সে স্থান থেকে আমরা চলে আসি। এরপর আমরা ষোলোদানা এলাকায় প্রচারণায় যাই। সেখানেও তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। তদ্রুপ সে স্থান ত্যাগ করে আমরা খাজুরিয়া বাজারে আসার পর তারা সেখানেও আমাদের ওপর আক্রমণ করে এবং আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে। আমাদের নেতা কর্মীদের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেছে তারা। এসব কিছু সাংবাদিকরা দেখেছে, প্রশাসনও দেখেছে, সবাই দেখেছে। প্রশাসনের সামনেই ঘটেছে এই হামলার ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এতেও তারা থামেনি। রূপসা বাজারে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সেক্রেটারির ওপর আক্রমণ করে, সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার বাড়িতে হামলা করে এবং নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। আমাদের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে আছে। খোঁজ নিয়ে আপনারা দেখতে পারেন। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রাখব, আপনারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার বিচার করেন। এতে যদি আমি অপরাধী হই, তাহলে আমাকে আইনের আওতায় আনেন। আমি দরকার হলে কারাগারে যেতেও প্রস্তুত, শুধু সঠিক তদন্ত করে দেখেন প্রকৃত অপরাধী কারা। সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিংড়ি প্রতীকের নির্বাচন কমিটির সমন্বয়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, বিএনপি নেতা শফিউল বাশার মুকুল পাটওয়ারী, প্রার্থীর ছেলে আব্দুল্লাহ হান্নান, আমানত গাজী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ, মতামত, রাজনীতি

ফরিদগঞ্জে ছোট খাটো হলেও ইপিজেড গড়ে তোলা হবে.. হারুনুর রশিদ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৬৩ চাঁদপুর- ৪ ফরিদগঞ্জ থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন মো. হারুনুর রশিদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে বিএনপির খারাপ সময়ের এমপি। সে সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সংগত কারণে তিনি উন্নয়ন করতে পারেননি। ২০২৬ এর নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে কেমন ফরিদগঞ্জ গড়বেন সে বিষয়ে মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ’র।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : আপনি কি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?মো. হারুনুর রশিদ : আমিতো আশা করতেছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হবো।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিবে?মো. হারুনুর রশিদ : জনগণ আমাকে ভোট দিবে কারণ আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি। অতিতে কাজ করেছি, এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। সামনে কি কাজ করবো তারও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে হ্যাঁ ভোটের গুরুত্ব কতটুকু?মো. হারুনুর রশিদ : হ্যাঁ ভোটের, না ভোটের গুরুত্ব আসলে এটা আমরা এলাকায় প্রচার প্রসারনা করতেছি। এলাকার মানুষের উপরতো আমরা কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে পারিনা। এলাকার মানুষকে বলতেছি, তারা যেটা সঠিক সেটাই সিদ্ধান্ত নিবে বলে আমি মনে করি।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতটুকু পরিবর্তণ হয়েছে?মো. হারুনুর রশিদ : গুনগতমান অবশ্যই পরিবর্তন হয়েছে। তার মানে হলো- গত ১৬/১৭ বছর কি হয়েছে সেটাতো আপনারা জানেন। আমরা অতিতের কথা বলতে চাই না, অতিতের কথা বললে বর্তমানের কথা বলা যাবেনা। আমরা অতিতের কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না। সামনের দিকে ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?মো. হারুনুর রশিদ : আমি মনে করছি বাংলাদেশে একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা দরকার।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সমাজে প্রচলিত আছে- জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতটুকু সত্য?মো. হারুনুর রশিদ : কে প্রতিশ্রুতি ভুললো সেটা বড় কথা নয়, আমি আমার প্রতিশ্রুতির কথা ভুলিনি। অতিতে ভালো কাজ করেছি, সামনের দিকেও ভালো কাজ করবো। এটা আমি জোর গলায় বলতে পারি।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও এখানে শিল্প উন্নয়ন বলতে তেমন কিছুই নেই। এ বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?মো. হারুনুর রশিদ : পরিকল্পনা আছে এবং সেই আইটেমগুলা আমরা বলতেছি। আমাদের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার লক্ষ্যে বড় না হোক ছোট খাটো ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। যাতে করে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন ধরনের শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা যায়। যার জন্য বেকাররা চাকরি করতে পারে। যারা বিদেশ যাবে তাদের জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা। ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ করে বিদেশ পাঠালে তারা ডাবল ইনকাম করতে পারবে। এতে করে আমাদের রেমিট্যান্সেরও অভাব হবে না।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : আপনার বিজয়ের ক্ষেত্রে জনাব এম.এ হান্নান বাধা হয়ে দাঁড়াবে?মো. হারুনুর রশিদ : আমি একটা দল করি, আমি একটা দলের প্রতিনিধিত্ব করি। একজন ব্যক্তি বড় কিছু করতে পারেনা। বিষয়টি বুঝা যাবে নির্বাচনের ১০/১২ দিন আগে। একটা ব্যক্তি তার টুকটাক মানুষকে দিতে পারে সেটা হলো সাময়িক কিন্তু বছরকে বছর রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, মাদক, আইনশৃঙ্খলার উন্নয় একটা সরকারই করতে পারে। একটা ব্যক্তির লিমিটেশন আছে। এটা মানুষ বুঝে- একটা ব্যক্তি কতটুকু কাজ করতে পারে, একটা ব্যক্তির সোর্চ অব ইনকাম কী? অতিতের ব্যাগরাউন্ড দেখে মানুষ বিবেচনা করে।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : ২০০৮ এবং ২০২৬ সংসদ নির্বাচনে বেশি কঠিন মনে হয় কোনটিকে?মো. হারুনুর রশিদ : ২০০৮ তো ছিলো অন্যরকম। এটা ডে বাই ডে, এটার মানে হচ্ছে- মেধা বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। ২০২৬ এর নির্বাচন মোটামুটি অনেক মানুষ এবং ইয়াং জেনারেশনের জন্য আমরা কি করবো, কি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান অলরেডি অনেকগুলা প্যাকেজ উনি বলছেন। সে প্যাকেজ আমরা প্রচার প্রসারনা চালাচ্ছি। ইয়াং জেনারেশনের জন্য ভালো কিছু হবে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে।নুরুল ইসলাম ফরহাদ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ?মো. হারুনুর রশিদ : ওকে, থ্যাঙ্কইউ।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

‘নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চলছে’ — হারুনুর রশিদ

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী সহিংসতা, নাশকতা ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের অনুসারীদের একটি অংশ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনা সংসদ সম্মেলন শুরু হয়।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তিনি বলেন  গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই ফরিদগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা, বিলবোর্ডে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালালেও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে ধানের শীষের সমর্থকদের প্রচারণাকালে হামলার অভিযোগ তুলে বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিছিলে আক্রমণ করা হয় এবং এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একইসঙ্গে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আর্থিক প্রলোভন ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে দলত্যাগে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কম্বল বিতরণ, ভোট কেনার চেষ্টা এবং বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। রূপসা বাজার ও খাজুরিয়া বাজার এলাকায় দোকানপাট, সিএনজি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, অতীতে লায়ন মো. হারুনুর রশিদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি করা হয়নি। বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে তারা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে ফরিদগঞ্জবাসীকে মিথ্যাচার ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মন্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি উপদেষ্টা এডভোকেট দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান দুলাল, মহসিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টিপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আজকের সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, বিশেষ সংবাদ, রাজনীতি

এক বিদ্রোহীতে দিশেহারা উপজেলা বিএনপি

আক্তার হোসাইন : বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঠেকাতে স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং পৌরসভা বিএনপির সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। বিলুপ্ত করা হয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং পৌরসভা যুবদলের কমিটি। বহিষ্কার করা হয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক এবং সদস্য সচিবকে। বহিষ্কার করা হয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেনসহ আরো ৩ যুগ্ম-আহবায়ককে। কাগজে কলমে ফরিদগঞ্জ এখন বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন নেতৃত্ব শূন্য প্রায়। এক বিদ্রোহীতেই ধরাশায়ী ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। চাঁদপুর-০৪ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন পেয়েছেন এ আসনের সাবেক সাংসদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিংড়ী প্রতীকে নির্বাচন করছেন উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির (বর্তমানে কার্যক্রম স্থগিত) আহবায়ক মো. আব্দুল হান্নান। উপজেলা এবং পৌরসভা বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী আব্দুল হান্নানের পক্ষে কাজ করায় ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের ঘোষনা দেওয়া চাঁদপুর-০৪ আসনের চিংড়ী প্রতীকের প্রার্থী এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য মো. আব্দুল হান্নানকে। ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং ফরিদগঞ্জ পৌরসভা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও ফরিদগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. আমানত গাজী এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. ফারুক আহমেদ খানকে বহিষ্কারের ঘোষনা দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান মঞ্জুর এবং সদস্য সচিব আবু ইউসুফ চৌধুরী শাওনকে বহিষ্কারের ঘোষনা দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক মো. হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী, মো. আহসান হাবীব, মো. জাকির হোসেন শেখকে বহিষ্কারের ঘোষনা দেওয়া হয়। এত এত বহিষ্কার কার্যত দালিলিকভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলাকে বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বকে প্রায় শূন্যের কোটায় নিয়ে এসেছে। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন সংকটে আর পড়তে হয়নি বিএনপিকে। চাঁদপুর-০৪ আসনে (ফরিদগঞ্জ) তৃণমূল নেতাকর্মীদের পালস অনুধাবনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ হয়েছেন এবং ধানের শীষের ভরাডুবির মধ্য দিয়ে দূর্গে খেসারত দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে বিএনপির সর্বশেষ কমিটির (কার্যক্রম স্থগিত) আহবায়ক এম এ হান্নানের প্রতি দল এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভালোবাসার কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়েছে এবং বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে কেন্দ্র জনবিচ্ছিন্নতার পথ অবলম্বন করেছে। দলের দুঃসময়ের নেতাদের এরকম ঢালাও বহিষ্কার সাধারণ কর্মী সমর্থকদের ধানের শীষের প্রতিকূলে অধিক প্রভাবিত করবে। দল সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিবে। তাছাড়া এসকল নেতাদের এতদিন সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে যে রাখঢাকটুকু ছিলো, বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে তাদের সে প্রতিবন্ধকতাটুকু কেটে গেলো। এতে ধানের শীষের সংকট আরো ঘনীভূত হলো।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ, রাজনীতি

ফরিদগঞ্জে শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বাগত র‍্যালি ও সমাবেশ

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক : ফরিদগঞ্জে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাগত র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি)বিকাল ৪টা থেকে ফরিদগঞ্জ বাজার সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে একটি স্বাগত র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হয়ে কালিরবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘শুভ শুভ শুভ দিন, শিবিরের জন্মদিন’, ‘আজকের এই দিনে, হাদি তোমায় মনে পড়ে’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, হাদির মুখে কথা কবো’, ‘শহীদের রক্ত, বৃথা যেত দেবো না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দেন।এ সময় তাদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা, দলীয় পতাকা, কালেমাখচিত সবুজ পতাকা এবং শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংক্রান্ত নানা ফেস্টুন দেখা যায়। র‍্যালি শেষে কালিরবাজার এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক জেলা সভাপতি শেখ বেলায়েত হোসেন, চাঁদপুর জেলা সভাপতি ইব্রাহিম খলিল,সেক্রেটারি হাসিবুর রহমান সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে সাবেক চাঁদপুর জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রশাসনের বাহিনী ব্যবহার করে আমাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। সব বাহিনী আমাদের বিরুদ্ধ ব্যবহার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি মাটিতে শিবিরের আবাদ হয়েছে। দীর্ঘ জুলুম, নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শিবিরের ইমান এবং আকিদা বেড়েছে।সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, শহীদ ওসমান হাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, তুমি জীবন দিয়েছো; তোমার রক্তের বদৌলতে লাখো ওসমান হাদি জন্ম নিয়েছে। যারা দেখিয়ে দেবে, বাংলাদেশের পতাকাকে কীভাবে শকুনের হাত থেকে রক্ষা করতে হয়।চাঁদপুর জেলা শিবিরের বর্তমান সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, এই বাংলাদেশে দীর্ঘ ৫৪ বছর বিভাজনের একটা রাজনীতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। জাতির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বিভাজিত রাজনীতি করে এ জাতির অগ্রগতি রোধ করে এ জাতিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, ছাত্রশিবির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করে। এ দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য যদি কেউ জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে সে হলো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সুতরাং, কোনো ট্টাম্পকার্ড খেলে এ কাফেলাকে তোমরা আটকে রাখতে পারবা না। তিনি আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়া মানে আজাদীর পক্ষে রায় দেওয়া, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন দুদক, স্বাধীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে এ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন হওয়া। সুতরাং আমরা আগামী নির্বাচনে তাদের জন্য শ্রম দেবো, যারা ভারতে গিয়ে পালায়নি, যারা লন্ডনে গিয়ে পালায়নি।তিনি আরো বলেন, ১৯৭৭ সালে এই দিনে ইসলামি ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমরা ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদাপর্ণ করেছি। এ পথ আমাদের জন্য কণ্টকাকীর্ণ ছিল। রক্তে ভেজা পথ ছিল। শাহাদাতের পিচ্ছিল পথ আমাদের পাড়ি দিতে হয়েছে। আমাদের অসংখ্য ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে।আমাদের শত শত ভাইকে গুম করা হয়েছিলো, আয়নাঘরে নির্যাতন করা হয়েছে, অনেক ভাইদের লাশগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন খালে-বিলে, নদীতে পাওয়া গিয়েছিল। ক্যাম্পাসগুলোতে আমাদের ভাইদের নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছিল। আমরা ন্যূনতম পরিচয়টুকু দিতে পারতাম না। এতকিছুর পরও যারা মেধা শ্রম যোগ্যতা দিয়ে এই সংগঠনকে মহীরূহে পরিণত করেছে তাদের মঙ্গল কামনা করছি।

Scroll to Top