১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

আজকের সংবাদ, বিশেষ সংবাদ

সংসদ নির্বাচনে গণভোট ধূসর ॥ অধিকাংশ ভোটার বোঝে না গণভোট!

নুরুল ইসলাম ফরহাদ :আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু অধিকাংশ ভোটার (ফরিদগঞ্জ) বুঝে না গণভোট কী? কীভাবে দিবে? অথবা কি বিষয়ের উপর ভোট দিবে। বোঝে না গণভোটের গুরুত্ব, তাৎপর্য, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা। শুধু এটুকু জানে হ্যাঁ অথবা না তে ভোট দিতে হবে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে আর কখনো এ রকম দু’টি নির্বাচন একত্রে হয়নি। সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, এটা সবাই জানে বা বোঝে। কিন্তু গণভোট বিষয়টি অধিকাংশ মানুষের কাছেই বোধগম্য নয়। নির্বাচনের আর মাত্র মাসখানেক বাকি অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচারণা তেমন একটা চোখে পড়ছেনা। দু’টি ভোট একত্রে হওয়ার কারণে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত সংসদ সদস্য নির্বাচন নিয়ে।বাংলাদেশে সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ফলে দেশে গত ৩৫ বছরে কোনো গণভোট হয়নি। বর্তমানে দেশের যে মোট ভোটার, তাদের অনেকেই গণভোট দেখেননি। ভোটারদের একটা বড় অংশের জন্য এটা একটা নতুন বিষয়। একটা সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতো, সে খানেও প্রার্থী থাকতো। স্থানীয় নির্বাচনেও প্রার্থী থাকে, সংসদ সদস্য নির্বাচনেও প্রার্থী থাকে কিন্তু গণভোটে কোনো প্রার্থী থাকে না। গণভোট হলো কোনো একটি বিষয় ভোটাররা সমর্থন করেন, নাকি করেন না- এটা জানা।কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচেতন ভোটারদের একটি অংশও ধোয়াশার মধ্যে আছেন। তাদের প্রশ্ন কেউ যদি চারটি প্রশ্নের দু’টির ক্ষেত্রে একমত এবং অন্য দু’টির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানাতে চান, সে ক্ষেত্রে তিনি কীভাবে একটি উত্তর অর্থাৎ হ্যাঁ অথবা না দিয়ে নিজের মতামত জানাবেন?বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, এখনকার মানুষ অনেক সচেতন তারা অনেক কিছু জানেন এবং বোঝেন। গণভোট নিয়ে কাজ করার এখনো অনেক সময় আছে।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম মনোনিত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী গণভোট সম্পর্কে বলন, অন্য দল থেকে জামায়াত ইসলাম গণভোট নিয়ে বেশী প্রচারণা করেছে এবং করছে। আমরা জেলা ব্যাপী প্রায় দশ লাখ লিফলেট বিতরণ করেছি। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি প্রশাসনকে গণভোট নিয়ে বেশী কথা বলতে হবে। তাদেরকেই বেশী প্রচারণা চালাতে হবে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, এবারের গণভোটের মধ্যে অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোও রয়েছে। গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন থেকে আমরা জনগণকে প্রচার করছি। ইতোমধ্যে আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে লিফলেট বিতরণ এবং উঠান বৈঠক করেছি।

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :পৈত্রিক সম্পত্তি দাবী করে দীর্ঘ ৬০ বছরের দখলীয় ভূমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ জেঠাতো ভাইয়েরা। হুমকী ধুমকীর কারণে প্রাণের ভয়ে দিনাতিপাত করছে চাচাত ভাইয়ের পরিবার। শৌচাগার বন্ধ। বাচ্চারা স্কুল যেতে পারছেনা। পুকুরে যেতে পারছে না। ৩/৪ দিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন মো. আইউব গংদের পরিবার। অবরুদ্ধ পরিবারটি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানোর কারণে সাখাওয়াতকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারতে ছুটে যায় প্রতিপক্ষ আবদুল মান্নান। জীবনের নিরপত্ত চেয়ে বাধ্য হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় জিডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মো. সাখাওয়াত হোছাইন।ঘটনাটি উপজেলার ৪নং সুবিধপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড়গাঁও গ্রামের দৌলারবাড়ীতে। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং ও আব্দুল মান্নান গং চাচাতো জেঠাতো ভাই। মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভোগ দখলে আছে। হঠাৎ করে আব্দুল মান্নান গং দাবী করে ঐ সম্পত্তিতে তাদেরও অংশ আছে। এ নিয়ে শালিস হয় এবং সার্ভে হয়। মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং সার্ভে আপত্তি করলে আব্দুল মান্নান গং জোর করে সে সম্পত্তিতে বাঁশের শক্ত বেড়া দেয়। এতে করে ৩/৪ দিন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং এর পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। উক্ত সম্পত্তির উপর তাদের শৌচাগার, গোসল খানা এবং যাতায়াতের রাস্তা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পরিবারটি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা পৈত্রিকসূত্রে দীর্ঘ ৮০/৯০ বছর উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখলে আছি। হঠাৎ করে উনারা এসে বলে এ সম্পত্তিতে উনাদের ভাগ আছে। ১১ জানুয়ারি উনারা জোর করে আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। কিছু বললে উনারা মেরে ফেলার হুমকী দেয়। টাকা এবং পেশী শক্তির কারণে এলাকার কেউ উনাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেনা।মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন এর বড় ভাই মো. আইউব বলেন, উনাদের দাবী উনারা আমাদের কাছ থেকে জমি পাবেন কিন্তু চূড়ান্ত জরিফ ছাড়া উনারা আমাদের দীর্ঘ বছরের যাতায়াতের রাস্তাটিও বন্ধ করে দিয়েছে। ওদের শক্তি বেশী তাই আমরা নিরুপায়। আমরা প্রশাসনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।গৃহবধূ হাছিনা বেগম বলেন, ওরা জোর করে আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছি। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমরা প্রশাসনের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আ. রহমান (৭) বলে, বেড়া দেওয়ার কারণে আমরা স্কুলে যেতে পারছিনা। আমাদের অনেক সমস্যা হয়।অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা পৈত্রিক এবং ক্রয় সূত্রে ঐ সম্পত্তির মালিক। সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সমাধান করে আমরা বেড়া দিয়েছি।ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (৩নং ওয়ার্ড) ওবায়েদ বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিলো। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর উক্ত সম্পত্তি সাখাওয়াত গংদের দখলে ছিলো। প্রায় তিন মাস আগে মাপজরিপ হয়। কয়েকদিন আগে সেখানে বেড়া দেওয়ার পর এখন তারা (সাখাওয়াত) মাপ নিয়ে আপত্তি তোলে।ক্যাপশন : ফরিদগঞ্জের সুবিদপুরে অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

আজকের সংবাদ, প্রধান সংবাদ, ফরিদগঞ্জ

আচরণ বিধি লংঙ্ঘন করে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় ফরিদগঞ্জের ৬৭ শিক্ষক!

ফরিদগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :আচরণ বিধি লংঙ্ঘন করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ফরিদগঞ্জের ৬৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।গত সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়- ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে। যা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ঢাকা কর্তৃক ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর ২০ (খ) নং বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। ওসমান গনি স্বাক্ষরিত ঐ আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়- সরকারি বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হারুনুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে হাটে বাজারে, অফিস আদালতে, রাস্তা-ঘাটে উঠান বৈঠকসহ মিছিল মিটিং এর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। এসব শিক্ষকদের প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ দিলে অবাদ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।অভিযোগপত্রে যেসব শিক্ষকদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ কড়ৈতলী আলিম মাদ্রাসা, সেকদি এস.কে.ইউ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, বালিথুবা শামছুদ্দিন আদুদিয়া মাদ্রাসা, চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লাউতলী ডা. রশিদ আহমদ কলেজ, কালিরবাজার কলেজ, দারুল এখলাছ দাখিল মাদ্রাসা, কামতা ফাযিল মাদ্রাসা, কাওনিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, কাছিয়াড়া ফাযিল মাদ্রাসা, ঘনিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামদাসেরবাগ আলিম মাদ্রাসা, লক্ষীপুর কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসা, রূপসা আহম্মদিয়া মাদ্রাসা, গাজীপুর ফাযিল মাদ্রাসা, আলোনিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ফিরোজপুর জনকল্যান উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়, লড়াইরচর মদিনাতুল উলুম হালিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ লড়াইরচর বায়তুন্নবী দাখিল মাদ্রাসা, মানুরী ফাযিল মাদ্রাসা, ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ, শোল্লা আশেক আলী স্কুল এন্ড কলেজ, গল্লাক স্কুল এন্ড কলেজ, চরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিম পোঁয়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা, ইসলামপুর শাহ ইয়াছিন ফাযিল মাদ্রাসা, পুরান রামপুর আব্দুর রব আলিম মাদ্রাসা, পূর্ব বড়ালী শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয়, বদরপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, কাশারা সিনিয়র মাদ্রাসা ও মুন্সীরহাট আলিম মাদ্রাসা।

Scroll to Top