১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নুরুল ইসলাম ফরহাদ :
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, শঙ্কা, উদ্বিগ্ন আর প্রত্যাশার স্বপ্নে সাধারণ ভোটাররা বসে আছে ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট প্রদানে বঞ্চিত ছিলো। তাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। যথা সময়ে ভোট হবে না এই শঙ্কার কারণেই ভোট প্রদানের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ফরিদগঞ্জ বাসীর প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা অনেক।
ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে গ্যাস নেই। যা উন্নত জীবন ব্যবস্থার অন্যতম একটি মাধ্যম। নেই রেল যোগাযোগ। আধুনিক নগরায়নের পূর্ব শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ। যা ফরিদগঞ্জে নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাজুক। স্বাস্থ্য খাত রুগ্ন। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। শিশু পার্ক এবং বিনোদন পার্ক নেই। প্রশাসনিক সেবা নিতে সাধারণকে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দক্ষ যুব শক্তি গড়ার ক্ষেত্রে নেই কোনো প্রতিষ্ঠান। যে প্রার্থী স্থায়ীভাবে এসব উন্নয়ন করবে ভোটাররা তার সাথে আছে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা যে দিবে এবং শুধু শুধু হয়রানি বন্ধে যে কাজ করবে, ভিন্ন মতকে যে সহ্য করতে পারবে আগামী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তাকেই ভোট দিবে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের চায়ের দোকানের আড্ডায় মানুষের সার কথা এটাই।
কয়েকশ’ বছরের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় আজকের এই ফরিদগঞ্জ। অনেকটা অগোছালো, অপরিকল্পিত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন। বর্তমানে উপজেলাবাসী কিছুটা হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে হয়তোবা আগামী কয়েক দশক পরে এক স্বপ্নীল ফরিদগঞ্জ দেখবে জনগণ। যদি প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিগণ সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যান এবং কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ১০০/২০০ বছরের একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে পারেন, অন্যরকম এক ফরিদগঞ্জ দেখতে পারবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বিশ্বের উন্নত শহর গুলোতে ৫০০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড করে থাকে। কোনো এলাকা উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হতে হবে। তিন/চার লেন রাস্তার পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে। ভবন তৈরির ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
সচেতন ভোটারদের অভিমত, ‘ফরিদগঞ্জের দুর্ভাগ্য এখানে সে অর্থে তেমন কোনো উন্নয়নই হয়ানি। চাঁদপুর জেলার প্রায় সবগুলো উপজেলায় গ্যাস আছে, রেল লাইন আছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা আছে কিন্তু আমাদের এখানে কি আছে? ফরিদগঞ্জ সদরের রাস্তা দেখলেই বুঝা যায় উপজেলার হাল। ‘কচুয়ায়, মতলব, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সদরের এমপিরা মন্ত্রী হয়। ফরিদগঞ্জে এম.এ মান্নান ছাড়া আর কোনো এমপি মন্ত্রী হতে পারেননি। অতএব যোগ্য লোককেই এমপি বানাতে হবে। যে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবে। নিজ এলাকার জন্য বরাদ্ধ নিয়ে আসতে পারবে।’
বিগত দিনে ফরিদগঞ্জে গতানুগতিক উন্নয়ন ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। যে প্রার্থী সংসদে গিয়ে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে একথা গুলো বলতে এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবে। ফরিদগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী একটি রেল এবং গ্যাস সংযোগ। এখানে গ্যাসবিহীন আধুনিকতা কল্পনাও করা যায় না। উপজেলায় গ্যাস সংযোগ মানুষের প্রাণের দাবী। বেড়ী বাঁধের কারনে উপজেলাবাসী নৌ পথের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যদি এখানে বেল লাইনের সংযোগ থাকতো, তাহলে ফরিদগঞ্জও একটি ব্যবসায়ী জোন হতে পারতো। সড়ক পথের যাত্র অনেক। ব্যবসায়ীদের দাবী ফরিদগঞ্জে রেল লাইন হোক। যে প্রার্থী বিনোদনের সাথে, তরুণ ভোটাররা তার সাথে। যান্ত্রিকতা থেকে বেরিয়ে এসে একটু ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে মানুষ বিনোদন চায়। বিনোদনকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এক- খেলা। দুই- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিনেমা, নাটক। তিন- রাইডসহ পার্ক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডীত ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনাকে সংস্কার করে সেখানেও পার্ক গড়ে তোলা যায়। ফরিদগঞ্জে মোটামুটি মানেরও কোনো খেলার মাঠ নেই। যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়েরা নিয়মিত খেলতে পারে।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান বলেন,‘ফরিদগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়নসহ যিনি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন, গণমানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এমন প্রার্থীকেই আমরা প্রত্যাশা করি।’
ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র সভাপতি ফরিদ আহমেদ মুন্না বলেন,‘যে বিষয়গুলো আমাদের প্রয়োজন, আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে যিনি ফরিদগঞ্জকে সাজাতে পারবেন, আমাদের দাবীদাওয়া মিটাতে পারবেন, বিশেষ করে তরুণরা তাকেই ভোট দিবে। সত্যিকার অর্থে সংসদে গিয়ে ফরিদগঞ্জের উন্নয়নের পক্ষে জোরালো দাবী রাখতে পারবেন, তরুণদের মনের কথা বুঝতে পারবেন এবং ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারবেন ভোট তার।’

সর্বশেষ

Calendar
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728  
Scroll to Top